Posts

চতুষ্কোণ | মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

Image
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বইটা আগে পড়া ছিল না। বাতিঘরের ধ্রুপদী সংস্করণের বইটা দেশ থেকে আনিয়েছে তিথি, সেটা হাতে নিয়ে দেখতে গিয়ে এত ভালো লাগছিল যে এক ছুটির দিনের সকাল থেকে সন্ধ্যা টানা পড়ে শেষ করে ফেললাম।  পড়তে গিয়ে চট করে 'স্ট্রিম অব কনশাসনেস' টার্মটা মাথায় এলো। মানিকের নিজের লেখায়ও আগে এর ব্যবহার দেখেছি, তবে এত স্পষ্ট করে আগে কখনও চোখে পড়েছে বলে মনে পড়ছে না।  গল্পের মূল চরিত্র রাজকুমার, কেন জানি সৈয়দ হকের বাবর আলীকে মনে করিয়ে দেয়। বিষয় হিসেবে রাজকুমারের ভাবনা সেই সময়ে যথেষ্ঠ বিতর্ক তৈরি করার কথা। সত্যিই করেছে কিনা খুঁজে দেখতে হবে কখনও।

কাফকা

Image
কাফকা: বন্ধুবর ম্যাক্স, এই রহিল আমার আইডি আর পাসওয়ার্ড। আমি মরিবার পরে আমার ফেসবুক অ্যাকাউন্টখানি ডিলিট করিয়া দিও। ম্যাক্স ব্রড: মু হা হা হা হা।

ফিজি, ২০২২।

Image
 

শেকসপিয়র অ্যান্ড কোম্পানি | আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

Image
সেই সব দিনে আমার কাছে বই কেনার মত কোনো টাকা থাকত না। আমি তাই শেকসপিয়র অ্যান্ড কোম্পানির রেন্টাল লাইব্রেরি থেকে ভাড়া করে এনে বই পড়তাম। ১২ রু-ডে-ল'ওডিওন রাস্তায় ছিল এই বইয়ের দোকান আর লাইব্রেরিটা, সিলভিয়া বিচ সেটা চালাত। দোকানের জায়গাটা বেশ খোলামেলা, তাই ঠান্ডা বাতাসের আনাগোনা থাকলেও সেটা তবু ভরে থাকত মানুষের আনন্দ আর উষ্ণতায়। শীতকালে বড় একটা স্টোভ জ্বালিয়ে দেয়া হতো দোকানের সামনে, ভেতরে টেবল আর শেলফভর্তি অনেক বই সাজানো। নতুন বইগুলো রাখা হতো জানালার কাছে, আর দেয়াল জুড়ে লাগানো থাকত জীবিত এবং মৃত বিখ্যাত সব লেখকের ছবি। ছবিগুলো স্ন্যাপশটের মত দেখতে, মৃত লেখকদেরও সেগুলোয় বেশ জীবন্ত দেখাত। সিলভিয়াও ছিল জীবনীশক্তিতে ভরপুর একজন মানুষ। তার মুখের গঠন ছিল ধারালো; চোখগুলো বাদামী রঙের, ছোট্ট কোনো প্রাণীর চোখের মতই জ্বলজ্বলে, আর কমবয়েসী মেয়েদের মত ছটফটে। সিলভিয়ার মাথার ঢেউ খেলানো বাদামী চুল সুন্দর কপালটা থেকে টেনে এনে একেবারে মাথার পেছন পর্যন্ত শক্ত করে বাঁধা থাকত। আর মাথার পাশে কানের পেছন পর্যন্ত যত্ন করে কাটা ঘন চুল ছুঁয়ে থাকত তার ভেলভেট জ্যাকেটের বাদামী কলার। খুব সুন্দর আর সুগঠিত পা ছিল সিলভিয়ার...

টিকিটাকা | ওয়াসি আহমেদ

Image
এই বইয়ের লেখাগুলো বাংলা ব্লগের স্বর্ণযুগের আরামদায়ক পোস্টগুলোর কথা মনে করিয়ে দিলো। তবে বেশিরভাগ লেখা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, ব্লগের তুলনায় তাই বেশ গোছানো তাদের পরিবেশনা। সবচেয়ে আগ্রহোদ্দীপক হচ্ছে লেখাগুলোর বিষয়বস্তু। উপন্যাস মরে যাচ্ছে কিনা, প্রকাশকের রিজেকশন লেটার, রবীন্দ্রনাথের গল্পের যেসব নায়কেরা হারিয়ে গিয়েছিল- এরকম সব বিষয় নিয়ে লেখক তার পর্যবেক্ষণ জানিয়েছেন। পরিচিত লেখকদের অজানা গল্প শুনলাম, আবার অপরিচিত অনেক লেখকের সাথে পরিচয়ও ঘটলো। আইওয়া ওয়ার্কশপে কাটানো দিনগুলোর স্মৃতিচারণ ভালো লেগেছে। বই বিষয়ক অনেক সাধারণ এবং অসাধারণ বিষয় নিয়ে ওয়াসি আহমেদের দেখার ভঙ্গিটা বেশ অভিনব মনে হয়েছে।

এক সন্ধ্যায় শ্যামশ্রী রায় | হামিম কামাল

Image
হামিম কামালের লেখা এই বইটা খুব সুন্দর।  গল্পগুলো কেমন কবিতার মতো, ঠিক আমাদের চেনা পৃথিবীর নয়। অন্য ভুবনের গল্প? হতেও পারে।  আমার যেন মনে হলো, অনেকগুলো স্বপ্নদৃশ্য দেখে গেলাম পরপর। ভালো লেগেছে।

ফিরোজা জলের নদী | প্রহরী

Image
  কবিরা সবাই যে সুন্দর করে পড়তেও পারবেন, এরকম নিশ্চয়তা নেই। প্রহরী সেদিক দিয়ে ব্যতিক্রম। তাঁর নিজের একটা আবৃত্তি দিয়েই প্রথম তাঁর কবিতার সাথে পরিচয় হয়েছিল, "যে সন্ধ্যায় তুমি চলে যাও"। তারপরে অনেক রাতেই ঘুমোবার সময় এই কবিতা ছেড়ে দিয়েছি ইউটিউবে, এরকম হয়েছে অন্তত হাজারবার। এবারে হাতে পেলাম তাঁর লেখা কবিতার বই - 'ফিরোজা জলের নদী'। মাত্র ৬৪ পৃষ্ঠার পাতলা ছিমছাম বইটা, কিন্তু ভেতরে ধরে রেখেছে ফোঁটা ফোঁটা করে জমিয়ে রাখা বেদনার অজস্র বিন্দু। অনেকটা মনোলগের মত করে লিখে যাওয়া কবিতাগুলো। কোনোটায় রয়েছে একটা খণ্ড দৃশ্য, আর কোনোটায় হয়ত একটা পূর্ণ উপলব্ধি। ভালোবাসা, দু:খ আর বিরহের সাথে কবিতায় এসেছে ফিলিস্তিন, এবং ইরফান খান। "তুমি ফিরে এসো, যেনো, আমি তোমার ধানসিঁড়ি নদী", এরকম আকুতি অথবা, "একটা রিকশা করে যাওয়া যায় অনেকটা দূর, এই ধরো, মোহাম্মদপুর থেকে শ্যামলী হয়ে মিরপুর", এরকম সরল অভিব্যক্তি ভরা পাতায় পাতায়। আর রয়েছে একটা দুর্দান্ত সুন্দর উৎসর্গের পাতা। পড়ে যেতে ভালো লেগেছে। এই সময়ের একজন কবি যাকে নিজস্ব নি:সঙ্গতায় মনে পড়বে, এরকম খুব বেশি নেই। প্রহরীকে ধন্যবাদ।

আজ ১২ ই মে ...

Image
প্রতিবছর ১২ মে এলে মালা-র কথা মনে পড়ে। এই দিনে অঞ্জন দত্তের জীবন থেকে চলে গিয়েছিল মালা। ১২ মে তারিখটা দেখার সাথে সাথেই নিজে নিজে গুনগুন করে উঠি গানটা।  সাথে মনে পড়ে, আরও একটা জায়গার কথা। কুমিল্লার কোটবাড়িতে যেটার অবস্থান। পঞ্চাশ একরের মত জায়গা নিয়ে দেয়াল আর কাঁটাতার ঘেরা একটা এলাকা। ঠিক সিকি-শতাব্দী আগে সে জায়গা ছেড়ে চলে এসেছি, প্রথম কৈশোরের ছয়টি বছর সেখানে কাটিয়েছিলাম।  মাঝের এতগুলো বছর যখনি সে-জায়গাটার কথা ভেবেছি, কোনও একটা নির্দিষ্ট অনুভূতিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি মনের অবস্থা। কখনও ভালোলাগার ছবিগুলো তুলে এনেছে স্মৃতি, কখনও মনে পড়েছে ছোট্ট শিশুমনের ওপরে অহেতুক চাপের বেদনার্ত সময়ের কথা। জীবনের বিভিন্ন সময়ে এসে রহস্যময় স্মৃতি কেন যেন আলো ফেলেছে ভিন্ন ভিন্ন ছবির ওপর। আনন্দ, বেদনা, মাধুর্য ও তিক্ততায় মেশানো অদ্ভুত একটা সময় সেটা, অদ্ভুত একটা জায়গা।  এবছর ১২ মে তে কী ভেবে টেনে নিলাম শাহাদুজ্জামানের এই বইটা। খাকি চত্বরের খোয়ারি।   বেশ কয়েকবছর আগেই কেনা, পড়া হয়ে উঠছিল না। কিন্তু পড়ে বেশ ভালো লাগল। অনেকদিন পরে যেন নিজস্ব স্মৃতির পুকুরে চট করে একটা ডুব দিয়ে এলাম। আমার মনে ...

বানান রেফারেন্স

Image
  ১।  ২।  ৩।  ৪।  সূত্র: রাজশাহী, সরকারি বানান নিয়ম। 

কাগজের জার্নাল

Image
  অনেকদিন পরে কাগজে লিখতে গিয়ে খেয়াল করলাম, লেখায় বাংলা-ইংরেজির মিশেল তেমন একটা হচ্ছে না, কথা বলতে গেলে যেটা এড়ানো খুব মুশকিল হয়। এর পেছনে কারণ কী হতে পারে? একটা কারণ সম্ভবত, লিখতে গিয়ে ভাবনার সময় বেশি পাচ্ছি, কথা বলার তুলনায়। তার মানে, কথা যদি আরেকটু ধীরে বলি, তাহলে কি এটা এড়ানো সম্ভব? চেষ্টা করে দেখতে হবে।